SkinCeuticals C E Ferulic (1 fl. oz.)

SkinCeuticals C E Ferulic (1 fl. oz.)
SkinCeuticals' C E Ferulic features a synergistic antioxidant combination of ferulic acid and pure vitamin C and E to enhance your skin's protection against environmental damage caused by free radicals. In addition to antioxidant protective benefits, this formula improves signs of aging and photodamage to reduce the appearance of lines and wrinkles while firming and brightening your complexion. Lastly, this powerful formula helps neutralize free radicals induced by UVA/UVB, infrared radiation (IRA) and ozone pollution (O3).

স্বাস্থ্যসেবা খাতে আলাদা কমিশন হোক- সম্পাদকীয় মতামত Editorial News Prothom Alo for BCS and Others Written


হাইকোর্টের নির্দেশ

আমাদের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করার কথা বলা আছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তা নিশ্চিত করা যায়নি। দেশের স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা বরাবরই ভঙ্গুর ছিল। চলমান করোনা সংক্রমণ সেই ভঙ্গুরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণ যখন উচ্চমাত্রায় ছিল, তখন বহু মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরতে দেখা গেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য। অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু রোগীকেও ফিরিয়ে দিয়েছে প্রয়োজনীয় শয্যা, আইসিইউ, অক্সিজেন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক না থাকার অজুহাতে। এটি যেমন অমানবিক, তেমনি নিষ্ঠুরতাও।

বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই আচরণের বিরুদ্ধে রিট করলে হাইকোর্ট দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশে বলা হয়, ‘কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে যখনই হাসপাতাল বা ক্লিনিক অথবা চিকিৎসকের কাছে আনা হয়, ওই অসুস্থ ব্যক্তির তাৎক্ষণিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারবে না। যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এরূপ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকে, সে ক্ষেত্রে জরুরি সেবাগুলো বিদ্যমান রয়েছে, এমন নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে।’

এ ছাড়া উচ্চ আদালত সব বেসরকারি-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে—এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পৃথক তালিকা এবং স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক চিত্রও তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থাকতে হবে—শর্ত যুক্ত করে দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি রুল জারি করেছেন।


অনেকের কাছে আদালতের এই আদেশ কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবায় যে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চলছে, তা বন্ধ এবং রোগীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর আদেশের বিকল্প নেই। উচ্চ আদালতের এই আদেশ কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে নির্বাহী বিভাগের ওপর। যাঁরা হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচালনা করেন এবং যাঁরা তাঁদের তদারক করেন, তাঁদের সদিচ্ছা থাকলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন অসম্ভব নয়।

আমাদের প্রত্যাশা থাকবে উচ্চ আদালতের আদেশ মেনে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ চালু থাকবে এবং সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসাপ্রার্থীদের সেবা দেবে। মনে রাখতে হবে তাদের সেবা পাওয়া না পাওয়ার ওপর মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্নটি জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে আরেকটু মানবিকতা ও সহৃদয়তা প্রত্যাশা করা অন্যায় নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই স্বাস্থ্যসেবা রেগুলেটরি কমিশন আছে, যেখানে চিকিৎসাপ্রার্থীরা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারেন। আমাদের দেশেও জ্বালানি, বিমাসহ বিভিন্ন খাতে সেবাপ্রার্থীদের স্বার্থ দেখার জন্য আলাদা কমিশন আছে। তাহলে অতি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে অসুবিধা কোথায়?


স্বাস্থ্যসেবা খাতে আলাদা কমিশন হোক

 

Post a Comment

0 Comments